লাইভপাতা খোলার পর থেকে বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানির CO₂ নির্গমন:০টন

কার্বন ফুটপ্রিন্ট ক্যালকুলেটর

আপনার দৈনন্দিন জীবনের কার্বন নির্গমন জানুন এবং সবুজ ভবিষ্যতের পথে এক ধাপ এগিয়ে যান।

DILIGITE NATURAE PULCHRITUDINEM ✦ NOTRE DAME NATURE STUDY CLUB ✦ SINCE 1984 ✦ ০.৬২ টনবাংলাদেশের গড় ৪.৭ টনবৈশ্বিক গড় ১৪.২ টনযুক্তরাষ্ট্র
০.২৮%বিশ্বের মোট CO₂ নির্গমনে বাংলাদেশের অংশ (২০২৪), অথচ ঝুঁকি সবচেয়ে বেশিসূত্র: Our World in Data
১ কোটি ৩৩ লাখ২০৫০ সালের মধ্যে সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ জলবায়ু-অভিবাসীসূত্র: বিশ্বব্যাংক (Groundswell)
১০০ গুণগত ৫০ বছরে ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যু কমিয়েছে বাংলাদেশসূত্র: বিশ্বব্যাংক
৪০ লাখ+গ্রামে সোলার হোম সিস্টেম, কেরোসিনের বদলে সূর্যের আলোসূত্র: IDCOL

সচেতনতা ও পরিচিতি

কার্বন ফুটপ্রিন্ট কী?

রান্না, আলো-পাখা, যাতায়াত কিংবা আবর্জনা—আমাদের প্রতিটি কাজেই গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। এই সব গ্যাসের মোট পরিমাণকে কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য (CO₂e) এককে মাপা হয়। একজন মানুষের জীবনযাপনের ফলে বছরে যত CO₂e নির্গত হয়, সেটাই তার কার্বন ফুটপ্রিন্ট।

কেন এটি হিসাব করা প্রয়োজন?

নিজের নির্গমন জানলে কোথায় পরিবর্তন আনা দরকার তা বোঝা যায়। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমে, টাকা বাঁচে। আপনার সচেতন অভ্যাস পরিবার ও প্রতিবেশীকেও অনুপ্রাণিত করে—ফলে পুরো সমাজ উপকৃত হয়।

বৈশ্বিক প্রভাব ও আবহাওয়া পরিবর্তন

অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। এর ফলে মেরুর বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশের ঝুঁকি ও পদক্ষেপ

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, উপকূলে লবণাক্ততা ও বন্যা আমাদের জীবিকা হুমকিতে ফেলছে। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, বনায়ন এবং উন্নত চুলা (বন্ধু চুলা) কর্মসূচির মাধ্যমে নির্গমন কমানোর চেষ্টা করছে।

ইন্টারেক্টিভ ক্যালকুলেটর

ধাপে ধাপে তথ্য দিন।

    ধাপ ১ / ৫

    এলাকা ও পরিবার

    এই ক্যালকুলেটর একজন ব্যক্তির (আপনার নিজের) বার্ষিক ফুটপ্রিন্ট হিসাব করে। বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস বা জ্বালানির মতো পরিবারের যৌথ খরচ পুরো পরিবারের হিসাবে লিখুন; সেটি সদস্য সংখ্যা দিয়ে ভাগ হয়ে আপনার অংশ বের হবে। যাতায়াত, খাবার ও কেনাকাটা শুধু আপনার নিজেরটা লিখুন।
    আবাসিক এলাকা
    জন
    বাসস্থানের ধরন

    ভবনের লিফট ও পাম্পের বিদ্যুৎ সাধারণত আলাদা “কমন মিটারে” চলে, আপনার নিজের বিলে আসে না; তাই এর একটি ছোট অংশ যোগ করা হয়। পাম্প আপনার নিজের মিটারে চললে “একতলা/দোতলা পাকা বাড়ি” বেছে নিন।

    বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক তুলনা

    মাথাপিছু বার্ষিক জীবাশ্ম জ্বালানির CO₂ নির্গমন (মেট্রিক টন, ২০২৪)। এই মানগুলোতে খাদ্য ও বর্জ্য ধরা নেই, তাই হিসাব করলে আপনার ফলাফলের শুধু জ্বালানি ও যাতায়াত অংশ এখানে তুলনা করা হবে।

    ১ জন = ২৩ জনএকজন আমেরিকানের এক বছরের নির্গমন প্রায় ২৩ জন বাংলাদেশির সমান
    মাত্র ১৬ দিনএকজন বাংলাদেশি সারা বছরে যত CO₂ নির্গমন করেন, একজন আমেরিকান তা করেন প্রায় ১৬ দিনে
    ৪১.৩ টনমাথাপিছু বিশ্বে সর্বোচ্চ কাতারে, যা বাংলাদেশের প্রায় ৬৭ গুণ

    তথ্যসূত্র ও পদ্ধতি

    তুলনার মানগুলো মাথাপিছু বার্ষিক জীবাশ্ম জ্বালানির CO₂ নির্গমনের আনুমানিক ও রাউন্ড করা হিসাব (দেশের ভেতরে উৎপাদিত নির্গমন; খাদ্য ও বর্জ্য ধরা নেই)। Our World in Data (Ritchie ও Rosado, ২০২৫; CC BY 4.0) অনুযায়ী ২০২৪ সালে বাংলাদেশে মাথাপিছু প্রায় ০.৬২ টন; দেশভিত্তিক তুলনার জন্য দেখুন Our World in Data: মাথাপিছু CO₂। বৈশ্বিক গড়, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও কাতারের মান Global Carbon Project-এর ২০২৫ সালের উপাত্ত থেকে (GreenCalculus-এর সংকলন); ভারতের মান ও বিশ্ব নির্গমনে অংশ Our World in Data থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মান আনুমানিক ও যাচাই করা হয়নি। এই মানগুলোতে খাদ্য ও বর্জ্য নেই বলে তুলনায় আপনার ফলাফলের শুধু জ্বালানি ও যাতায়াত অংশ ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট গ্রিনহাউস গ্যাস প্রায় ১.৩ টন CO₂e, যা Climate Analytics-এর ২০১৯ সালের মোট ২১.৬ কোটি টনকে তখনকার প্রায় ১৬.৩ কোটি জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া।

    হিসাবের পদ্ধতি: এটি একজন ব্যক্তির বার্ষিক ফুটপ্রিন্ট। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি পুরো পরিবারের হিসাবে নিয়ে সদস্য সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হয়; অ্যাপার্টমেন্টে কমন মিটারের লিফট ও পাম্পের জন্য জনপ্রতি প্রায় ৪৪ কেজি (শুধু পাম্প থাকলে ৮ কেজি) যোগ হয়; যাতায়াত, খাদ্য ও কেনাকাটা ব্যক্তিগত। গ্রিড বিদ্যুৎ ০.৫৮ কেজি CO₂e/kWh (LowCarbonPower, এপ্রিল ২০২৫–মার্চ ২০২৬)। বিলের টাকা থেকে ইউনিট বের করতে ২০২৬ সালের আবাসিক স্ল্যাব রেট (০–৭৫ ইউনিট ৬.১৮ টাকা থেকে ৬০০-এর বেশি হলে ১৭.৩৫ টাকা; দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস) ব্যবহার করে ৫% ভ্যাট ও আনুমানিক ৮৪ টাকা ডিমান্ড চার্জ বাদ দেওয়া হয়। মিটারবিহীন ডাবল চুলায় মাসে প্রায় ৪৫ ও সিঙ্গেল চুলায় প্রায় ৪০ ঘনমিটার গ্যাস ধরা হয়েছে (প্রিপেইড মিটারের তথ্য নিয়ে BERC-এর বিশ্লেষণ, প্রথম আলো); প্রিপেইড মিটারে টাকাকে প্রতি ঘনমিটার ১৮ টাকা দিয়ে ভাগ করা হয়। জ্বালানির গুণক IPCC-এর প্রচলিত মান অনুযায়ী: প্রাকৃতিক গ্যাস প্রায় ২.০ কেজি CO₂/ঘনমিটার, এলপিজি ২.৯৮ কেজি/কেজি, কেরোসিন ২.৫২ ও ডিজেল ২.৬৮ কেজি/লিটার। খড়ি প্রতি কেজিতে ১.০ কেজি CO₂e (উন্নত চুলায় ০.৮৫) ধরা হয়েছে, কারণ এর একটি অংশ নবায়নযোগ্য এবং অসম্পূর্ণ দহনে মিথেন তৈরি হয়; খড়ির অংশ জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় ধরা হয় না।

    যাতায়াতের গুণক (প্রতি যাত্রী-কিলোমিটারে কেজি CO₂e): ব্যক্তিগত বা রাইড-শেয়ার গাড়ি ০.২০ (যাত্রী সংখ্যা দিয়ে ভাগ), মোটরবাইক ০.০৭, সিএনজি অটোরিকশা ০.০৬, ইঞ্জিনচালিত নৌকা ০.০৫, লেগুনা/নসিমন ০.০৪, বাস ০.০৩, মেট্রোরেল ও ইজি-বাইক ০.০২; অভ্যন্তরীণ বিমানে প্রতি আসা-যাওয়ায় ১২০, দূরপাল্লার বাস/ট্রেনে ১৫ ও লঞ্চে ২০ কেজি। খাদ্যের গুণকগুলো এমনভাবে সমন্বয় করা যে গড় বাংলাদেশি খাদ্যাভ্যাসে (দিনে ৩ প্লেট ভাত, সপ্তাহে ১ বেলা গরু/খাসি, ২ বেলা মুরগি, ৪ বেলা মাছ, ৩টি ডিম, ২ গ্লাস দুধ) বছরে প্রায় ০.৪৫ টন আসে, যা দেশের কৃষি খাতের মাথাপিছু নির্গমনের (মোট নির্গমনের ২৯%, প্রায় ০.৪ টন) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রতি বেলায় গরু/খাসি প্রায় ২.০, মুরগি ০.৪, মাছ ০.৩ কেজি; ডিম প্রতিটি ০.১৫, দুধ প্রতি গ্লাস ০.৪৫ ও ভাত প্রতি প্লেট ০.১১ কেজি। বাংলাদেশে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহার কম বলে অনেকের ফুটপ্রিন্টে খাদ্যের অংশ বড় হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ ধানক্ষেত ও গবাদিপশু থেকে মিথেন বের হয়। পোশাক প্রতিটি প্রায় ৬, মোবাইল ৬০ ও বড় যন্ত্র ২৫০ কেজি ধরা হয়েছে।

    হোমপেজের “লাইভ” কাউন্টারটি Global Carbon Budget ২০২৫-এর অনুমিত বৈশ্বিক জীবাশ্ম CO₂ নির্গমন (বছরে ৩৮.১ বিলিয়ন টন) প্রতি সেকেন্ডে সমানভাবে ভাগ করে দেখায়; এটি প্রকৃত সময়ের পরিমাপ নয়। সব গুণক আনুমানিক; এই ক্যালকুলেটর শিক্ষামূলক সচেতনতার জন্য, আনুষ্ঠানিক কার্বন হিসাবের জন্য নয়।

    আপনার কার্বন ফুটপ্রিন্ট রিপোর্ট

    আপনার নাম লিখে একটি ব্যক্তিগত PDF রিপোর্ট ডাউনলোড করুন। রিপোর্টে থাকবে:

    • আপনার বার্ষিক কার্বন ফুটপ্রিন্ট ও খাতভিত্তিক হিসাব
    • বাংলাদেশ, ভারত ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা
    • আপনার জন্য নির্দিষ্ট কার্বন কমানোর পরামর্শ

    রিপোর্ট পেতে আগে ক্যালকুলেটরে আপনার ফুটপ্রিন্ট হিসাব করুন।

    হিসাব শুরু করুন

    দৈনন্দিন কাজে কার্বন: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে

    কোন জিনিস বা কাজ বছরে আনুমানিক কত কেজি CO₂e নির্গমন করে, দেখে নিন।

    কেজি CO₂e/বছর, এই ক্যালকুলেটরের গুণক ব্যবহার করে আনুমানিক হিসাব। যাতায়াত: দিনে ২০ কিমি, বছরে ৩০০ দিন। বিদ্যুৎ: গ্রিড গুণক ০.৫৮ কেজি/kWh।

    দেশের নির্গমন কোথা থেকে আসে?

    মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে খাতভিত্তিক অংশ, ২০১৯

    ২১.৬ কোটিটন CO₂e
    • জ্বালানি: ৫৩%
    • কৃষি: ২৯%
    • বর্জ্য: ১০%
    • অন্যান্য: ৮%
    ৮১%২০১৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের অংশ
    মাত্র ২.৩%বিদ্যুৎ আসে কম-কার্বন উৎস থেকে (এপ্রিল ২০২৫–মার্চ ২০২৬)
    ৬০৪ ইউনিটমাথাপিছু বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহার (kWh)
    ৪০%নির্গমনের অংশ মিথেন; কৃষিতে এর বড় উৎস ধানক্ষেত ও গবাদিপশু (২০২১)
    ৯% জিডিপিবায়ুদূষণে প্রতি বছর অর্থনীতির আনুমানিক ক্ষতি
    ১০%দেশের নির্গমন আসে বর্জ্য থেকে; কম্পোস্ট এটি কমায়

    ব্যক্তিগত পর্যায়ে করণীয়

    • সব বাল্ব LED-তে বদলান, অপ্রয়োজনে সুইচ ও প্লাগ বন্ধ রাখুন
    • এসি ২৫°C-এ চালান, দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন, ফ্যানের সঙ্গে ব্যবহার করুন
    • ছোট দূরত্বে হাঁটুন বা সাইকেল চালান; দূরে মেট্রোরেল ও বাস
    • সপ্তাহে লাল মাংস কমান, মৌসুমি শাকসবজি খান, খাবার নষ্ট করবেন না
    • খড়ির চুলার বদলে বন্ধু চুলা বা এলপিজি, রান্নায় হাঁড়ি ঢেকে রাখুন
    • পাট/কাপড়ের ব্যাগ নিন, বর্জ্য আলাদা করুন, রান্নাঘরের বর্জ্যে কম্পোস্ট
    • সম্ভব হলে ছাদে সোলার বসান, দেশি গাছ লাগান ও যত্ন নিন

    জাতীয় লক্ষ্য

    • ২ কোটি পরিবারে উন্নত চুলা, বায়োমাস চুলার বাজারের ৭০%
    • ধান চাষের ২০% জমিতে পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো (AWD) সেচ
    • ব্যবস্থাপিত বর্জ্যের ৫০% ল্যান্ডফিলের বদলে কম্পোস্টে
    • ল্যান্ডফিল গ্যাসের ৭০% সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন
    • ৫,৯২৫টি সোলার সেচ পাম্প (১৭৬.৩৮ মেগাওয়াট)
    • ঘর ও বাণিজ্যিক ভবনে বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী যন্ত্রের ব্যবহার

    চার্ট ও “সাশ্রয়” কার্ডের মানগুলো এই ক্যালকুলেটরের গুণক থেকে আনুমানিক হিসাব। খাতভিত্তিক অংশ, মোট নির্গমন, গ্যাসের অংশ ও জাতীয় লক্ষ্যগুলো Climate Analytics-এর সারসংক্ষেপ থেকে; সোলার সেচ পাম্পের লক্ষ্য CGS-এর NDC বিশ্লেষণ থেকে। মিথেনের অংশ Emission Index, কম-কার্বন বিদ্যুৎ ও মাথাপিছু ব্যবহার LowCarbonPower, এবং বায়ুদূষণের ক্ষতি বিশ্বব্যাংকের দেশভিত্তিক জলবায়ু ও উন্নয়ন প্রতিবেদন (ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন) থেকে।