তুলনার মানগুলো মাথাপিছু বার্ষিক জীবাশ্ম জ্বালানির CO₂ নির্গমনের আনুমানিক ও রাউন্ড করা হিসাব (দেশের ভেতরে উৎপাদিত নির্গমন; খাদ্য ও বর্জ্য ধরা নেই)। Our World in Data (Ritchie ও Rosado, ২০২৫; CC BY 4.0) অনুযায়ী ২০২৪ সালে বাংলাদেশে মাথাপিছু প্রায় ০.৬২ টন; দেশভিত্তিক তুলনার জন্য দেখুন Our World in Data: মাথাপিছু CO₂। বৈশ্বিক গড়, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও কাতারের মান Global Carbon Project-এর ২০২৫ সালের উপাত্ত থেকে (GreenCalculus-এর সংকলন); ভারতের মান ও বিশ্ব নির্গমনে অংশ Our World in Data থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মান আনুমানিক ও যাচাই করা হয়নি। এই মানগুলোতে খাদ্য ও বর্জ্য নেই বলে তুলনায় আপনার ফলাফলের শুধু জ্বালানি ও যাতায়াত অংশ ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট গ্রিনহাউস গ্যাস প্রায় ১.৩ টন CO₂e, যা Climate Analytics-এর ২০১৯ সালের মোট ২১.৬ কোটি টনকে তখনকার প্রায় ১৬.৩ কোটি জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া।
হিসাবের পদ্ধতি: এটি একজন ব্যক্তির বার্ষিক ফুটপ্রিন্ট। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি পুরো পরিবারের হিসাবে নিয়ে সদস্য সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হয়; অ্যাপার্টমেন্টে কমন মিটারের লিফট ও পাম্পের জন্য জনপ্রতি প্রায় ৪৪ কেজি (শুধু পাম্প থাকলে ৮ কেজি) যোগ হয়; যাতায়াত, খাদ্য ও কেনাকাটা ব্যক্তিগত। গ্রিড বিদ্যুৎ ০.৫৮ কেজি CO₂e/kWh (LowCarbonPower, এপ্রিল ২০২৫–মার্চ ২০২৬)। বিলের টাকা থেকে ইউনিট বের করতে ২০২৬ সালের আবাসিক স্ল্যাব রেট (০–৭৫ ইউনিট ৬.১৮ টাকা থেকে ৬০০-এর বেশি হলে ১৭.৩৫ টাকা; দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস) ব্যবহার করে ৫% ভ্যাট ও আনুমানিক ৮৪ টাকা ডিমান্ড চার্জ বাদ দেওয়া হয়। মিটারবিহীন ডাবল চুলায় মাসে প্রায় ৪৫ ও সিঙ্গেল চুলায় প্রায় ৪০ ঘনমিটার গ্যাস ধরা হয়েছে (প্রিপেইড মিটারের তথ্য নিয়ে BERC-এর বিশ্লেষণ, প্রথম আলো); প্রিপেইড মিটারে টাকাকে প্রতি ঘনমিটার ১৮ টাকা দিয়ে ভাগ করা হয়। জ্বালানির গুণক IPCC-এর প্রচলিত মান অনুযায়ী: প্রাকৃতিক গ্যাস প্রায় ২.০ কেজি CO₂/ঘনমিটার, এলপিজি ২.৯৮ কেজি/কেজি, কেরোসিন ২.৫২ ও ডিজেল ২.৬৮ কেজি/লিটার। খড়ি প্রতি কেজিতে ১.০ কেজি CO₂e (উন্নত চুলায় ০.৮৫) ধরা হয়েছে, কারণ এর একটি অংশ নবায়নযোগ্য এবং অসম্পূর্ণ দহনে মিথেন তৈরি হয়; খড়ির অংশ জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় ধরা হয় না।
যাতায়াতের গুণক (প্রতি যাত্রী-কিলোমিটারে কেজি CO₂e): ব্যক্তিগত বা রাইড-শেয়ার গাড়ি ০.২০ (যাত্রী সংখ্যা দিয়ে ভাগ), মোটরবাইক ০.০৭, সিএনজি অটোরিকশা ০.০৬, ইঞ্জিনচালিত নৌকা ০.০৫, লেগুনা/নসিমন ০.০৪, বাস ০.০৩, মেট্রোরেল ও ইজি-বাইক ০.০২; অভ্যন্তরীণ বিমানে প্রতি আসা-যাওয়ায় ১২০, দূরপাল্লার বাস/ট্রেনে ১৫ ও লঞ্চে ২০ কেজি। খাদ্যের গুণকগুলো এমনভাবে সমন্বয় করা যে গড় বাংলাদেশি খাদ্যাভ্যাসে (দিনে ৩ প্লেট ভাত, সপ্তাহে ১ বেলা গরু/খাসি, ২ বেলা মুরগি, ৪ বেলা মাছ, ৩টি ডিম, ২ গ্লাস দুধ) বছরে প্রায় ০.৪৫ টন আসে, যা দেশের কৃষি খাতের মাথাপিছু নির্গমনের (মোট নির্গমনের ২৯%, প্রায় ০.৪ টন) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রতি বেলায় গরু/খাসি প্রায় ২.০, মুরগি ০.৪, মাছ ০.৩ কেজি; ডিম প্রতিটি ০.১৫, দুধ প্রতি গ্লাস ০.৪৫ ও ভাত প্রতি প্লেট ০.১১ কেজি। বাংলাদেশে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহার কম বলে অনেকের ফুটপ্রিন্টে খাদ্যের অংশ বড় হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ ধানক্ষেত ও গবাদিপশু থেকে মিথেন বের হয়। পোশাক প্রতিটি প্রায় ৬, মোবাইল ৬০ ও বড় যন্ত্র ২৫০ কেজি ধরা হয়েছে।
হোমপেজের “লাইভ” কাউন্টারটি Global Carbon Budget ২০২৫-এর অনুমিত বৈশ্বিক জীবাশ্ম CO₂ নির্গমন (বছরে ৩৮.১ বিলিয়ন টন) প্রতি সেকেন্ডে সমানভাবে ভাগ করে দেখায়; এটি প্রকৃত সময়ের পরিমাপ নয়। সব গুণক আনুমানিক; এই ক্যালকুলেটর শিক্ষামূলক সচেতনতার জন্য, আনুষ্ঠানিক কার্বন হিসাবের জন্য নয়।